উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় হিসেবে ওজন কমানো, অ্যালকোহল সেবন বন্ধ করা এবং স্মকিং ছেড়ে দেয়া প্রসিদ্ধ।

যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তাহলে আপনার উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনার জন্য ওষুধ গ্রহণ নিয়ে আপনি চিন্তিত হতে পারেন। তবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে আপনার জীবনধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আপনি যদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনার রক্তচাপ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে আপনি ওষুধের প্রয়োজন এড়াতে কিংবা কমাতে পারবেন।

উচ্চ রক্তচাপ একটি বিপজ্জনক রোগ যা আপনার হার্টের ক্ষতি করতে পারে। যদিও কঠিন তারপরও উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় গুলো সঠিকভাবে জানলে ও মানলে আপনার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা অনেকাংশেই সহজ হবে, ইন শা আল্লাহ।

নিচে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর কিছু উপায় বাতলানো হল…

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়

অনলাইনে প্রচুর উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু তার সব গুলোই শতভাগ সঠিক নয়। আমরা এই আর্টিকেলে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক স্বীকৃত উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ওজন কমান

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়

সধারনত ওজন বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে রক্তচাপ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ঘুমানোর সময় আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হতে পারে (স্লিপ অ্যাপনিয়া), যা আপনার রক্তচাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায় হিসেবে ওজন কমানো হতে পারে অন্যতম কার্যকর পন্থা। যদি আপনি অতিরিক্ত মোটা হন তবে আপনার অল্প পরিমাণে ওজন হ্রাস করা আপনার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সাধারণভাবে, আপনার প্রতি কিলোগ্রাম (প্রায় ২.২ পাউন্ড) ওজন হ্রাসে রক্তচাপ প্রায় ১ মিলিমিটার পারদ (মিমি এইচজি) কমে যায়।

ওজন কমানোর পাশাপাশি, আপনার কোমরের দিকেও নজর রাখা উচিত। আপনার কোমরের চারপাশের অতিরিক্ত ওজন আপনার উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সাধারণত পুরুষদের কোমরের পরিমাপ যদি ৪০ ইঞ্চির (১০২ সেন্টিমিটার) বেশি হয় তবে তারা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে আছে। আর মহিলাদের কোমরের পরিমাপ ৩৫ ইঞ্চির (৮৯ সেন্টিমিটার) বেশি হলে তারা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে লবণ (সোডিয়াম) কম খান

আপনার খাবারে লবনের (সোডিয়াম) সামান্য হ্রাস আপনার হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে রক্তচাপ প্রায় ৫ থেকে ৬ মিমি এইচজি হ্রাস করতে পারে।

সাধারণত দিনে ২৩০০ মিলিগ্রাম (মিগ্রা) বা তার কম লবণ গ্রহন করা উচিত। তবে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আদর্শ পরিমাণ হল দিনে ১৫০০ মিলিগ্রাম বা তারও কম।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে দুশ্চিন্তা বন্ধ করুন

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপ ঘটাতে অবদান রাখতে পারে। যদিও রক্তচাপের উপর দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরো ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

আপনি যদি মাঝে মাঝেও মানসিক চাপে পরে থাকেন তবেও আপনার উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যদি আপনি অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকেন, অথবা অ্যালকোহল পান করেন বা ধূমপানে আসক্ত থাকেন।

কী কারণে আপনি মানসিক চাপ অনুভব করছেন? কাজ, পরিবার, আর্থিক কোন চাপ বা শারীরিক অসুস্থতার মতো কোন কারণ? ভেবে চিন্তে কিছুটা সময় নিয়ে বের করুন। আপনার মানসিক চাপের কারণটি!

একবার বের করার পরে কীভাবে মানসিক চাপ দূর করা যায় বা কমানো যায় তা খুঁজে বের করুন।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ধূমপান ছেড়ে দিন

ধূমপান হৃদরোগের জন্য একটি বড় ঝুঁকির কারণ।

সিগারেটের প্রতিটি ধোঁয়ার ফলে রক্তচাপ সাময়িক বৃদ্ধি পায় এবং তামাকের রাসায়নিকগুলি রক্তনালীর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে।

আশ্চর্যজনকভাবে, গবেষণায় ধূমপান এবং উচ্চ রক্তচাপের মধ্যে কোন চূড়ান্ত লিঙ্ক পাওয়া যায়নি। সম্ভবত এটির কারণ হল, ধূমপায়ীরা সময়ের সাথে সিগারেটের সাথে মানিয়ে নেয়।

তবে, যেহেতু ধূমপান এবং উচ্চ রক্তচাপ উভয়ই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই ধূমপান ত্যাগ করা সেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ক্যাফিন খাওয়া কমিয়ে দিন

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়

রক্তচাপে ক্যাফিনের ভূমিকা কী তা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। ক্যাফিন রক্তচাপ ১০ মিমি Hg পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে, যারা খুব কমই এটি গ্রহন করে শুধুমাত্র তারাই।

কিন্তু যারা নিয়মিত কফি পান করেন তারা তাদের রক্তচাপে সামান্য বা কোন প্রভাবই অনুভব করেন না।

যদিও রক্তচাপে ক্যাফিনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলি স্পষ্ট নয়, তবে রক্তচাপ কিছুটা বাড়তে পারে।

ক্যাফিন আপনার রক্তচাপ বাড়ায় কিনা তা দেখতে, ক্যাফিনযুক্ত পানীয় পান করার ৩০ মিনিটের মধ্যে আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

যদি আপনার রক্তচাপ ৫ থেকে ১০ mm Hg বৃদ্ধি পায়, তাহলে আপনি ক্যাফিনের রক্তচাপ বৃদ্ধির প্রভাবের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারেন।

রক্তচাপে ক্যাফিনের প্রভাব সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে মদ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ছেড়ে দিন

অ্যালকোহল বা মদ পান করলে রক্তচাপ বেরে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ার ১৬% কারণ হল অ্যালকোহল বা মদ সেবন।

যদিও কিছু গবেষণা পরামর্শে বলা হয়েছে যে নিম্ন থেকে মাঝারি পরিমাণে অ্যালকোহল সেবন হার্টকে ভালো রাখতে সহায়তা করে, তবে সেগুলি অ্যালকোহল সেবনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাতিল হয়ে যায়।

উচ্চ রক্তচাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর উপায়

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম – যেমন সপ্তাহে ১৫০ মিনিট, অথবা সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন প্রায় ৩০ মিনিট করে – আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকলে আপনার রক্তচাপ প্রায় ৫ থেকে ৮ mm Hg কমিয়ে দিতে পারে।

এটি ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনি যদি ব্যায়াম বন্ধ করেন তবে আপনার রক্তচাপ আবারও বাড়তে পারে।

রক্তচাপ কমানোর চেষ্টা করতে পারেন এমন কিছু অ্যারোবিক ব্যায়ামের উদাহরণ হল হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং, সাঁতার বা নাচ।

Related Articles

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায় হিসেবে ব্যায়ামের গুরুত্ব আছে কি?

হার্ট অ্যাটাক এ গুরুত্বপূর্ণ ১৩ খাবার

Resources


1. https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/high-blood-pressure/in-depth/high-blood-pressure/art-20046974
2. https://www.medicalnewstoday.com/articles/318716#alcohol
3. https://www.health.harvard.edu/staying-healthy/6-simple-tips-to-reduce-your-blood-pressure